বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি ॥ লালমনিরহাটে গিয়াস উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিউল নামে ১০ম শ্রেণীর এক ছাত্রকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রী, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছে ওই ছাত্রের মামা।
অভিযোগে জানা যায়, লালনিরহাট গিয়াস উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে কিছুদিন পূর্বে বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী আয়শা ও রুমি খাতুনকে ওই বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী (কেরানী) মহির উদ্দিন বিভিন্ন সময় অশ্লীল কথা বার্তা বলে উত্তাক্ত করেছিল। এর সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে ওই স্কুলের ছাত্র রবিউল ও তার ৬/৭ জন সহপাঠি মিলে অফিস সহকারী মহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। এ বিষয়টি পরবর্তীতে ছাত্রলীগের কলেজ শাখার কয়েকজন নেতৃবৃন্দ স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন। এর কয়েকদিন পরে স্কুলের সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা এসএসসি টেষ্ট পরীক্ষার ১ম দিনে হলে যান এবং রবিউলসহ প্রতিবাদকারী ওই ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলে তোমরা স্কুলে ঝামেলা করেছ তাই আমি দেখবো কেমন করে টেষ্ট পরীক্ষায় উত্তির্ন হও বলে হুমকী প্রদান করেন। তাৎক্ষনিক ভাবে ওই ছাত্ররা বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে অবহিত করেন। প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি অবগত করার কারণে সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা ক্ষিপ্ত হয়ে তার দায়িত্বে থাকা ৩টি বিষয়ে ওই ছাত্রদের অকৃতকার্য করে দেন। পরবর্তীতে রবিউলসহ ওই ছাত্ররা চ্যালেঞ্জ করে অকৃতকার্য বিষয়গুলো দেখার আবেদন করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে কোন খাতা দেখান নাই বা নিরপেক্ষ কোন শিক্ষক দ্বারা খাতা পুনরায় দেখানো হয়নি।
একারনে বিদ্যালয়ের রবিউলসহ ওই ছাত্ররা ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারেনি। বিষয়টি মেনে নিয়েও যখন ওই ছাত্ররা চলতি বছরের ১জানুয়ারী নতুন করে সেশন ফি জমা দিয়ে ক্লাস করতে যান তখন সেই সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা ক্লাসে না গিয়ে মাঠে দাড়িয়ে থাকেন। পরবর্তীতে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা বেলা বেগম ক্লাসে এসে রবিউলকে বলে স্যার (গোলাম মোস্তফা) তোমার উপর ক্ষিপ্ত তাই তুমি ক্লাস করতে পারবে না। কিছুদিন পর এসে ক্লাস করবে। পরবর্তীতে ৩ ফেব্রুয়ারী রবিউল আবার স্কুলে গেলে প্রধান শিক্ষক রাজিবুল হক তাকে বলে তুমি স্কুল সভাপতি আশরাফ হোসেন বাদল সাহেবের সাথে দেখা না করা পর্যন্ত তোমাকে ক্লাস করতে দেয়া হবে না।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী রবিউলের মামা সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যালয়ের কেরানী কর্তৃক ছাত্রীর সাথে অশ্লীল কথা বার্তার প্রতিবাদ করায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিবুল হক ও সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা পরিকল্পিতভাবে টেষ্ট পরীক্ষায় আমার ভাগিনাকে অকৃতকার্য করে এসএসসি পরীক্ষা দেয়া থেকে বঞ্চিত করেছেন। তারপরেও বিষয়টি তিনি মেনে নিয়ে ভাগিনাকে পুনরায় ১০ম শ্রেণীতে ভর্তি করে তাকে ক্লাস করার জন্য স্কুলে পাঠাই। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসএসসি পরীক্ষার সরকারী নির্ধারিত ফি ১হাজার ৬শত টাকা নির্ধারন করা হলেও তারা ৩হাজার টাকা নিয়েছেন। এ ব্যাপারেও তার ভাগিনাসহ ওই ছাত্ররা প্রতিবাদ করলে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের হস্তক্ষেপে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়। এ কারনেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ভাগিনার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এই মানসিক নির্যাতন করছে। যাহা শিক্ষকদের কাছে এটা কাম্য নয় বলে তিনি জানান। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক দায়ী শিক্ষকদের বিচার দাবী করে জেলা প্রশাসকসহ জেলা শিক্ষা অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সাথে কেরানী মহিরের অশ্লিল আচরনের কথা স্বীকার করে সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, বিষয়টি আগের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিদ্বয় মিমাংসা করে দিয়েছেন। এখানে আমার কোন বক্তব্য নেই। তবে তিনি তার দায়িত্ব ৩টি নয়, দুইটি বিষয়ের কথা স্বীকার করেন। তিনি ওইসব ছাত্রদের টেষ্টে ইচ্ছাকৃতভাবে অকৃতকার্য করে এসএসসি পরীক্ষা দেয়া থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগটি অস্বীকার করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিবুল হক অভিযোগে তার বক্তব্যের কথা স্বীকার করলেও অন্যান্য অভিযোগ গুলো সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন তিনি। রবিউলসহ ওই ছাত্ররা ৫/৬ বিষয়ে ফেল করায় তাদের চলতি এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করতে দেয়া হয়নি। তবে তাদেরকে পুনরায় ১০ম শ্রেণীতে সেশন ফি জমা দিয়ে ক্লাস করতে বলা হয়েছে। তারা যেন ভাল করে পড়া লেখা করে টেষ্টে কৃতকার্য হয় এবং আগামীতে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারে।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন বাদলকে রবিবার বিকেল ৩টা ১৯মিনিটে মোবাইল ফোনে (০১৭১৮৫৪২০৩৭) যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
লালমনিরহাট জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আজিজুল ইসলাম জানান, এ রকম একটা অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি। তবে জেলা প্রশাসক মহোদয় নির্দেশ দিলেই বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করে তদন্তে রিপোর্ট জেলা প্রশাসক বরাবরে জমা দিলে তিনিই ব্যবস্থা নিবেন।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, অভিযোগ পেয়েছি, খুব দ্রুত আমরা ওই ছাত্রের গার্ডিয়ান ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডেকে তাদের কাছে বিষয়টি শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।